Home / সাজঘর / মাত্র ৩০ দিনে চোখের পাপড়ি ঘন ও লম্বা করুন!

মাত্র ৩০ দিনে চোখের পাপড়ি ঘন ও লম্বা করুন!

চোখের বড় বড় পাপড়ি কে না পছন্দ করে! প্রাকৃতিকভাবে লম্বা এবং ঘন চোখের পাপড়ি সকলের কাছেই দারুণ আকর্ষণীয় একটা ব্যপার। সাজগোজের সময়ে নকল চোখের পাপড়ি ব্যবহার না করলে অনেকের যেন চোখে সাজের পরিপূর্ণতা আসেই না একেবারে। তবে নিজের চোখের পাপড়ি প্রাকৃতিকভাবে লম্বা এবং দারুণ সুন্দর করে তুলতে চাইলে আপনাকে জানতে হবে মাত্র নয়টি সহজ উপায়। এর মধ্যে যেকোন উপায় নিয়মিতভাবে মেনে চললে খুব সহজে আপনার চোখের পাপড়ি হয়ে যাবে প্রাকৃতিকভাবেই লম্বা এবং ঘন। চলুন জেনে নিই সহজ উপায়গুলো-

১/ আঁচড়ানো
কেন এটা কাজ করে: আঁচড়ানোর ফলে রক্তপ্রবাহ ত্বরান্বিত হয়, যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।
কীভাবে ব্যবহার করতে হবে: চোখের পাপড়ির জন্য বিশেষ ধরণের ব্রাশ অথবা খুব ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা মাশকারার ব্রাশে কয়েক ফোঁটা ভিটামিন-ই দিয়ে দিনে দুইবার করে পাঁচ মিনিটের জন্য চোখের পাপড়ি ভালোভাবে ব্রাশ করতে হবে।

২/ তেল
কেন এটা কাজ করে: ক্যাস্টর, নারকেল এবং অলিভ অয়েলে রয়েছে ফ্যাটি এসিড যা শরীরের গ্রন্থিকোষে পুষ্টি যুগিয়ে চোখের পাপড়ি সুস্থ এবং সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।
কীভাবে ব্যবহার করতে হবে: প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক ফোঁটা তেল ব্রাশ অথবা আঙ্গুলে নিয়ে চোখের পাপড়িতে ভালমতো লাগিয়ে নিন। আপনি চাইলে শুধুমাত্র একটি তেল অথবা দুই-তিন প্রকারের তেল মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।

৩/ পেট্রোলিয়াম জেলী
কেন এটা কাজ করে: পেট্রোলিয়াম জেলী চোখের রুক্ষ পাপড়ি কে নমনীয় হতে সাহায্য করে। কীভাবে ব্যবহার করতে হবে: রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ব্রাশে অথবা হাতের আঙ্গুলে অল্প পরিমাণে পেট্রোলিয়াম জেলী নিয়ে চোখের পাপড়িতে ভালোভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ভালোভাবে চোখ মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

৪/ পুষ্টিকর খাবার
কেন এটা কাজ করে: শরীরে পুষ্টি এবং ভিটামিনের অভাব হলে চুল এবং চোখের পাপড়ি ঝরে যাবার সম্ভবনা থাকে।
কী করতে হবে: প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। প্রোটিন, ভিটামিন এবং ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন- বাদাম, মাংস, মাছ, ডিম, ফল এবং সবজী খেতে হবে।

৫/ গ্রিন টি
কেন এটা কাজ করে: গ্রিন টিতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন। যা চুল পড়ে যাওয়া রোধ করতে এবং বিভিন্ন ধরণের প্রসাধনি সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কীভাবে ব্যবহার করতে হবে: খুব কড়া করে এক কাপ গ্রিন টি বানাতে হবে এবং একদম ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। চা ঠাণ্ডা হয়ে গেলে তুলার সাহায্য চা চোখের পাপড়িতে ম্যাসেজ করতে হবে। দিনে দুইবার এমন করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৬/ ম্যাসাজ করা
কেন এটা কাজ করে: ম্যাসাজ করলে চোখের পাপড়ির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। কীভাবে এটা করতে হবে: মুখ এবং হাত ভালোভাবে ধুতে নিয়ে হাতে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল নিয়ে নিতে হবে। এরপর চোখের পাপড়ি, চোখের পাতা এবং চোখের চারপাশে খুব যত্নসহকারে এবং ভালোভাবে ম্যাসাজ করতে হবে পাঁচ মিনিট ধরে। প্রতি সপ্তাহে কয়েকবার এমন করতে হবে।

৭/ ডিমের মাস্ক
কেন এটা কাজ করে: ডিমে রয়েছে বায়োটিন এবং বি-গ্রুপ ভিটামিন সমূহ, যা চুল এবং চোখের পাপড়ির বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং ঝরে যেতে বাঁধা দেয়। কীভাবে ব্যবহার করতে হবে: একটি সম্পূর্ণ ডিম এবং এক টেবিল চামচ গ্লিসারিন অথবা পেট্রোলিয়াম জেলী একসাথে মিশিয়ে সেই মিশ্রণ চোখের পাপড়িতে লাগাতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিনবার এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করতে হবে কয়েক মাসের জন্য।

৮/ পরিষ্কার থাকা
কেন এটা কাজ করে: চোখের পাপড়িতে মাশকারা নিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং চুলে হেয়ার স্প্রে নিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া একই রকম ক্ষতিকর। তাই সকল মেকআপ পরিষ্কার করে নেওয়া আবশ্যক।
কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে: খুব সাবধানে এবং ভালোভাবে সকল মেকআপ পরিষ্কার করে ফেলুন। এক্ষেত্রে মেকআপ রিমুভার অথবা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

৯/ মেকআপ করা থেকে কিছুদিনের বিরতি নিন
কেন এটা কাজ করে: মাশকারার কিছু উপাদান চোখের পাপড়িতে নিস্প্রভ এবং নিস্প্রাণ করে দেয়।কী করতে হবে: কিছুদিন পরপর মেকআপ করার ক্ষেত্রে বিরতি নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ১-২ দিন কোন প্রসাধনি সামগ্রী চোখে ব্যবহার করা যাবে না। এবং কোন মাশকারার বয়স ৩-৬ মাসের বেশী হয়ে গেলে, সেটি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। শরীরের যে কোন অংশের মতো, চোখের পাপড়ির প্রতি বাড়তি যত্ন নিলে সেও দারুন হয়ে উঠবে। তার জন্য পরিচর্যার সঠিক পদ্ধতি এবং উপাদানের নাম জানা থাকা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *