Home / সাজঘর / ফাগুনে হলদে শাড়ি ও চুলে করুন ফুলের সাঁজ !

ফাগুনে হলদে শাড়ি ও চুলে করুন ফুলের সাঁজ !

হলদে শাড়িতে সাজিয়েছেন নিজেকে। সঙ্গে মানানসই সাজ। চুলে একটা হাতখোঁপা। ব্যস, ভাবছেন বুঝি সাজ পূর্ণ? কিন্তু কোথায় যেন কী নেই। বলছি ফুলের কথা। ফাল্গুনে চুলের সাজে ফুল যেন অনিবার্য, সে কথাই বললেন রেড বিউটি পার্লার অ্যান্ড স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে চুলের সাজের ইতিবৃত্ত জানাচ্ছেন জিনাত জোয়ার্দার রিপা

সময়টা না শীত, না গরম। শীত যাই যাই করছে, আবার গরমটাও ঠিক পড়েনি। ঋতু বদলের এই সময় সবার আগে জরুরি চুলের যত্ন নেওয়া। চুলে নিয়মিত তেল দিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে, মানে ঘষে ঘষে তেল লাগানোটা খুব জরুরি। মাসে দু-একবার ট্রিমিং করাটাও খুব দরকার। বাতাসে আর্দ্রতা কম। তাই চুলের আগা ফেটে যাচ্ছে হামেশাই। ট্রিমিং এ ক্ষেত্রে খুব কার্যকর। কার চুলে কী সমস্যা, সেটা তিনিই ভালো জানেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যিনি জানেন না বা বুঝতে পারেন না, তিনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। নিজের চুলের সমস্যা জেনেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। মাসে অন্তত তিনবার হেয়ার ট্রিটমেন্ট নেওয়া দরকার। সেটা ঘরে বসে হোক বা স্যালনে গিয়ে। তেল ম্যাসাজ, হেয়ার ট্রিটমেন্টে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে চুলের পুষ্টি পর্যাপ্ত থাকে। তাই যে ঋতুই আসুক না কেন, চুলে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।

অনেকের চুলই তৈলাক্ত। শ্যাম্পু করেও যেন ঠিক বাগে আনা যায় না চুলকে। আর ধুলোবালিতে গেলে তো কথাই নেই। এমন চুলের জন্য একদম সহজ একটি টোটকা হলো, দুটি পাতিলেবুর রস, দুই কাপ বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুল ভালো করে মুছে চুলের গোড়ায় ঘষে গষে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে মিনিট পাঁচেক রেখে ভালো করে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে।

এ তো গেল চুলের যত্নের দিক। এবার আসি চুলের সাজে। ফাল্গুনের উৎসবে বাঙালি নারীরা সাধারণত শাড়িই পরেন বেশি। সারা দিন রোদে ঘোরাঘুরিতে চুলে লেগে যায় বাইরের ধুলাবালি, ময়লা। তাই সাজের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, চুলের বাঁধন যাতে এমন হয়, যেন তা সারা দিন বয়ে নিয়ে যাওয়া কারো পক্ষে কষ্টের না হয়ে পড়ে। শাড়ির সঙ্গে খোঁপা দেখতে লাগে বেশ। আলতো করে হাতখোঁপা বাঁধা যেতে পারে। তাতে কানের পাশে লাগিয়ে নিন একটি গোলাপ বা চন্দ্রমল্লিকা। মুখের আকৃতি লম্বাটে ধাঁচের হলে একটু বড় জারবেরাও লাগাতে পারেন।

শাড়ির সঙ্গে করতে পারেন বেণিও। চুল লম্বা হলে কথা নেই। নিজের চুলেই হয়ে গেল। না হলেও অসুবিধা নেই। বাজারে পাওয়া যায় আলগা চুলের টার্সেল। সেটা লাগিয়েও বেণি করতে পারেন। গোলাকার আকৃতির মুখে বেণি মানায় ভালো। নিজের উচ্চতা বেশি হলে বেণির চেয়ে খোঁপাই ভালো মানাবে। বেণির পরতে পরতে লাগাতে পারেন ফ্লাওয়ার বল বা জিপসি প্যাটার্নের ফুল। তাজা ফুলই যে লাগাতে হবে, তেমন নয়। কাছাকাছি কোথাও গেলে বা সারা দিনের প্ল্যান না থাকলে তাজা ফুল জুতসই। কিন্তু সময় যদি দীর্ঘক্ষণের হয়, তবে আর্টিফিসিয়াল ফুলও লাগাতে পারেন। তাতে খানিকক্ষণ পর ফুল নেতিয়ে পড়বে না। বাজারে এখন মনের মতো আর্টিফিসিয়াল ফুল কিনতেই পাওয়া যায়।

পরনের পোশাক যদি কামিজ হয়, তবে বেণিই ভালো লাগবে বেশি। এমনকি খোলা চুলেও মাতাতে পারেন বন্ধুর আড্ডা। খোলা চুলের জন্য হাতের নাগালেই মিলে যাবে ফুলের তৈরি ব্যান্ড। আর বেণি করলে বেণির পরতে গুঁজে নিন ছোট কোনো ফুল। ফুলের রঙে উজ্জ্বলতা থাকাই শ্রেয়। আর পোশাকের রঙে মিলিয়ে নিলে তো কথাই নেই।

ভালো কথা, ফুল তো হলোই, চুলেরও যে গয়না আছে। পরতে পারেন তাও। টিকলি, টায়রা, মেটাল ফ্লাওয়ার স্টিক বা ফুল, লতা-পাতার ব্যান্ড, চুলে জড়িয়ে নিতে পারেন যেকোনোটি।
শাড়ি, কামিজের বাইরে অন্য কোনো পোশাকেও মানাবে ফুলের সাজ। এককথায় ফাল্গুনের চুলের সাজে ফুল তো মাস্ট!

টিপস

❏ সপ্তাহে অন্তত তিনবার চুলে তেল লাগান। শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রেও তাই।

❏ তেল কুসুম গরম করে নিলে ভালো। মাথায় খুশকি থাকলে এতে তেল লাগানোর পর সহজেই তা নরম হয়ে যাবে। চুল ধোয়ার সময় উঠে আসবে দ্রুত।

❏ চুল ধোয়ার পর সেটিং-এর আগে অবশ্যই শুকিয়ে নেবেন। ভেজা চুল বাঁধা যাবে না একদম!

❏ সারাদিন বাইরে থাকলে চুলের বাঁধন যেন আঁঁট-সাঁট না হয়। গোড়া আলগা রেখে চুল বাঁধুন সেক্ষেত্রে।

ছবিঃ ইনস্টাগ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *