Home / ত্বকের যত্ন / মাত্র ১৫দিনে ত্বকের গ্ল্যামার বাড়ানোর সহজ কিছু টিপস!

মাত্র ১৫দিনে ত্বকের গ্ল্যামার বাড়ানোর সহজ কিছু টিপস!

কর্মব্যস্ত জীবনে গ্ল্যামার দিনে দিনে কমেই বাড়ে না। রোদে যাঁরা বাসে-ট্রামে অফিস -কাছারি যান— অনেকটা হেঁটে কাজের জায়গা বা স্কুল-কলেজ যেতে হয় তাঁদের রোদে পুড়ে একটা অস্বাভাবিক কালচে ছোপ পড়ে মুখে, গলায় এবং হাতে। এই সানবার্ন থেকে মুক্তির সহজ ঘরোয়া, সস্তা এবং সোজা উপায় বলা হচ্ছে। এটা মেনে চললে পনেরো দিনেই আবার স্কিনের হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবেন।

আমাদের স্কিন মোটামুটি তিন ধরনের হয়— ক) স্বাভাবিক খ) তৈলাক্ত গ) শুষ্ক

ক) এবং খ) দুটোরই ক্ষেত্রে— গোসলের আগে বেসন দিয়ে মুখটা পরিষ্কার করে, ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার টাওয়েল দিয়ে মুছে নিন। তার পর ২ চা-চামচ অলিভ কিংবা নারকেল তেল, শশার খোসা না ছাড়িয়ে (হাফ শশা) গ্রেট করা, হাফ টম্যাটো গ্রেট করা, আট-দশ ফোঁটা পাতিলেবুর রসের সঙ্গে এক চা-চামচ মধু দিয়ে পুরোটা পেস্ট করতে হবে। তবে শশার রসটা কিন্তু নিংড়ে ওই পেস্টে মেশাতে হবে।

এবার আলতো করে গলায়, মুখে এবং হাতে যেখানে যেখানে রোদে ট্যানিং হয়েছে ওই সব জায়গায় অন্তত পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এবার ২০ মিনিট রেখে স্নান করে নিতে হবে। বাইরে বেরনোর সময় হাল্কা ময়শ্চারাইজার মেখে তার উপর সানস্ক্রিন মাখলে ভাল। এই ক’দিন চেষ্টা করতে হবে যতটা সম্ভব হাফহাতা শার্ট না পরে ঢিলে ঢালা হাল্কা রঙের ফুল স্লিভ জামা পরা।

টমেটোর রস ওই পেস্টের সঙ্গে একদিন অন্তর একদিন মেশাতে হবে, রোজ নয় কিন্তু। যাঁদের ত্বক শুকনো, তাঁরা উপরে লেখা মিশ্রণটি ব্যবহার করবেন কিন্তু তার সঙ্গে এক চামচ মাখন মিশিয়ে নেবেন।

রাতে শোবার আগে এই দু’সপ্তাহ মুখটা ভাল করে হাল্কা ফেস ওয়াশ দিয়ে ধোবেন। তার পরে একটা পাত্রে (বোল) ফুটন্ত জল ঢেলে মাথাটা একটা তোয়ালে দিয়ে পুরোটা ঢেকে গালে-গলায় গরম ভাপ (স্টিম) নিতে হবে। পানিতে চার-পাঁচটা তুলসিপাতা কিংবা নিমপাতা ফেললে আরও ভাল হয়। পাঁচ মিনিট ভাপ নিন। একটু পরে মুখে ঠান্ডা পানিতের ঝাপটা দিন। এটা মুখের ব্রণ কমাবে, মুখটা ভিতর থেকে পুরো পরিষ্কার করবে। এবার পরিষ্কার তোয়ালে নিয়ে মুখটা মুছে নিন।

এবার একটু ময়শ্চারাইজিং লোশন হাতে ঢালুন— গলায়, গালে, কপালে আর চোখের তলায় আন্দাজ মতো কয়েক ফোঁটা লাগান। শুকনো ত্বকে একটু পরিমাণ বেশি দিতে হবে। দু’হাতের আট আঙুল দিয়ে চিবুক থেকে উপর টানে কানের পাশ দিয়ে বাইরের দিকে ঘুরিয়ে, গোল করে ধীরে ধীরে আলতো ভাবে গাল ও চিবুকের ম্যাসাজ করুন। যাঁদের শুকনো ত্বকে ময়শ্চারাইজার তাড়াতাড়ি ত্বকে টেনে নেবে। সেক্ষেত্রে আর একবার দিন। এবার হাতের দুটো তালু দুটো গালে রাখুন আর তালুর সাহায্যে উপর দিকে গালের মাংসপেশি তুলে ম্যাসাজ করুন।

দু’হাতের দুই মধ্যমা আঙুল দিয়ে খুব আলতো ভাবে দশ থেকে পনেরো বার ক্লকওয়াইজ এবং অ্যান্টি ক্লকওয়াইজ ম্যাসাজ করুন। চোখের নীচের কোল থেকে রগ পর্যন্ত আঙুল দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকার ম্যাসাজ করুন। যাঁদের চোখ খুব স্ট্রেস করার জন্য কালচে হয়ে গেছে কিংবা ভিতরে ঢুকে গেছে তাঁরা উপকৃত হবেন। এবার দু’হাতের আটটি আঙুল দিয়ে গলার কণ্ঠা থেকে চিবুক পর্যন্ত উপরের প্রেশারে কোনাকুনিভাবে অর্থাৎ বাঁদিকটা ডান হাতের আঙুল ও ডানদিকটা বাঁ হাতের আঙুল দিয়ে দশ থেকে পনেরো বার ম্যাসাজ করুন।

এই পদ্ধতির ম্যাসাজটা দিনে দু’বার করতে হবে। সকালে ওই পেস্টের সঙ্গে আর রাতে ময়শ্চারাইজার দিয়ে। এতে গাল দুটো নরম হবে, বসা গালকে সতেজ করবে, চোখের তলায় কালি বা চোখ ঢুকে যাওয়া বন্ধ হবে, স্কিন উজ্জ্বল হবে, ব্রণ থাকলে বন্ধ হবে আর গালে ছোপ দাগ এবং সানট্যান ১৫ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই ম্যাসাজটা হচ্ছে মুখের এক্সারসাইজ।

ধবধবে সাদা দাঁতে যদি মুক্তোঝরা হাসি দিয়ে সবার মন জয় করতে চান, তবে খাবার সোডা অল্প দিয়ে সপ্তাহে দু’দিন ব্রাশ করুন আর দু’একদিন অন্তর একদিন পাতিলেবুর রস দিয়ে ভাল করে মাড়ি আর দাঁত মাসাজ করুন।

যাঁদের ঠোঁট কালচে, ঠোঁটে কালো ছোপ ছোপ দাগ, শুকনো এবং জৌলুসহীন— তাঁরা ওই পদ্ধতির পরে শোবার আগে এক চামচ মাখনের (সম্ভব না হলে নারকোল তেল) সঙ্গে হাফ চা-চামচ চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ স্ক্রাবিং করবেন অর্থাৎ পেস্টটা মাখিয়ে আলতো করে ঘষবেন। এবার টিস্যু পেপার বা পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ঠোঁট মুছে নেবেন।

ঠিক ঘুমোতে যাবার আগে হাফ চা-চামচ মাখন সম্ভব না হলে নারকোল তেল আর হাফ চা-চামচ মধু ভাল করে ঠোঁটে লাগিয়ে শুয়ে পড়বেন। যাঁরা অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাঁদের এটা করা খুবই জরুরি। সাতদিনের মধ্যে আপনি দেখবেন ‘লিপ ম্যাজিক’। আমি সব সময় চেষ্টা করি যাতে আমার পদ্ধতি আবালবৃদ্ধবনিতা উচ্চবিত্ত থেকে একেবারে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সবার কাছে পৌঁছতে পারে। সবাই যেন সমানভাবে উপকৃত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *