Home / অন্যান্য / কিছু বুঝার আগেই স্যার মেয়েদের বুক টাচ করে ফেলতো!

কিছু বুঝার আগেই স্যার মেয়েদের বুক টাচ করে ফেলতো!

আমি এমন এক স্কুলের ছাত্রী ছিলাম যা ছিল সেই সময়কার ওয়ান অফ দ্যা মোস্ট পশ স্কুল। স্কুলে সাধারনত দুই ধরনের পরিবারের ছাত্র/ছাত্রীরা পড়তে আসত। একদলের বাবারা ছিলেন অত্যন্ত ধনী ব্যবসায়ী গুলশান-বনানির, আরেক দলের বাবারা ছিলেন পিএইচডি ডিগ্রী ধারি, বুয়েট-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বুয়েট-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফ কোয়ার্টারবাসী। স্কুলটি ছিল একটা এক্সপেন্সিভ প্রাইভেট স্কুল। যখন আমার বাসা থেকে স্কুলে যেতে রিকশা ভাড়া লাগত ৮০ পয়সা, তখন এই স্কুলে আমার এক মাসের বেতন ছিল ৮০ টাকা।

স্কুলে একজন ড্রিল টিচার ছিলেন, যার তত্ত্বাবধানে স্কুলের ড্রাম-ড্রিল গ্রুপ গড়ে উঠেছিল, যার নাম পুরা ঢাকা শহর জুড়ে ছিল। শহরের বিভিন্ন ইম্পরট্যান্ট উদ্বোধনে আমাদের ড্রিল গ্রুপকে পাঠানো হতো। বুঝতেই পারছেন এই ড্রিল টিচারের ইম্পরটেন্স ইন দ্যা স্কুল। এই গ্রুপের আমিও সদস্য ছিলাম, বেইস ড্রাম বাজাতাম।

কিন্তু এই শিক্ষকের খুব খারাপ একটা স্বভাব ছিল। আর তা হচ্ছে মেয়েদের বুক এমনভাবে টাচ করে দেয়া সবার সামনে যে মেয়েটি ছাড়া আর কেউ বুঝত না। অত্যন্ত ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা সেই ফরমেটিভ ইয়ারে, কিছু বুঝার আর রিএক্ট করার আগেই স্যারের কর্ম সারা। আমরা যারা জানতাম ওনার এই স্বভাবের কথা, ফিজিক্যালি স্যার থেকে ৫ হাত দূর থাকতাম। অচেতনভাবেও ওনার হাতের নাগালের মাঝে আসতাম না। পারতপক্ষে কোন মেয়েকে ওনার সামনে একা রেখে আসতাম না। নিজেদের কাভার নিজেরাই দেয়ার চেষ্টা করতাম। ভাবতাম ঐ টুকুই আমাদের করনীয়।

আমর মতন কিছু মেয়ে নিজেদের সচেতনতায় স্যারের হাত থেকে রক্ষা পেলেও, অনেক মেয়ে রক্ষা পেত না। কোন কোন মেয়ে ঘটনা শেষে আমাদের কাছে এসে কেঁদে দিত। আর আমরা তাদের কিভাবে স্যারের হাতের নাগালের বাইরে থাকতে হয় তা শিখাতাম। আর গ্রুপের ছেলেরা কিছুতেই আমাদের সাহায্য করত না। তারা কেবল মুচকি হেসে আমাদের বলত এটা মেয়েদের প্রবলেম মেয়েরা সামলাও। সাথের ছেলেরাই যেখানে আমাদের পাশে দাড়ায়নি, সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার সাহসও আমরা করিনি তখন।

এভাবেই ২ বছর কেটে যায়। স্যারের সাহস দিন দিন বাড়তে থাকে আর আমাদের কমতে থাকে। অনেকেই গ্রুপ ছেড়ে দেই। কিন্তু মেয়েরা আমাদের সিনিয়র মেয়েদের কাছে এসে কমপ্লেইন করত। এক সময় বুঝতে পারলাম কর্তৃপক্ষের সাহায্য ছাড়া আমরা মেয়েদের আর রক্ষা করতে পারছি না। তাই একদিন সাহস করে, দল বেধে সিনিয়র মেয়েরা হেডমিস্ট্রেসের কাছে গিয়ে সব খুলে বললে, উনি এমন নামকরা প্রোগ্রামের ধার না ধরে ড্রিল স্যারকে বরখাস্ত করে দেন। আর আমাদেরকে আরও আগে কেন জানাইনি তার জন্য বকা দেন।

সমাজে তখন বখাটেদের তেমন দৌরাত্ম্য না থাকলেও নিউমার্কেট, গাউসিয়া, রাস্তা ঘাটে মেয়েদের গায়ে হাত দেয়া, অশ্লীল কথা শোনা কিংবা শীষ তখনও ছিল। ভিড়ের মধ্যে বুকের উপর ব্যাকপ্যাক নিয়ে হাটতাম যাতে কেউ টাচ করতে না পারে। আমি তো রিতিমত ম্যাথম্যাটিক্যাল কেল্কুলেশান করে থিওরি আবিষ্কার করেছিলাম কোন এঙ্গেল থেকে ছেলেরা কতো স্পিডে আসলে, কোন মুহূর্তে কতো এঙ্গেলে নিজেকে সরালে ইনকামিং পোটেনশিয়াল টাচার থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারব। মাই ক্যাল্কুলেশান ওয়র্কাড।

আমার নিজের কলেজ আমাদের বাসার খুব কাছে হওয়ায় প্রায় পায়ে হেটেই কলেজে চলে যেতাম। পার হতে হতো বুয়েট-ঢামেক। বুয়েট ঢাকা মেডিক্যালের ছাত্রদের কাছ থেকেই অনেক কথা শুনেছি – বউ হবে, বন্ধু হবে, কথা বলো না কেনো, সুন্দর লাগছে ইত্যাদি আরও কতো কি। মেডিক্যালের গুলা বেশী পাজি ছিল রাস্তার এক সাইড দিয়ে তাদের দলবেঁধে হোস্টেলে যেতে দেখলে, রাস্তা ক্রস করে অন্য সাইডে চলে যেতাম। কতদিন এর জন্যও কথা শুনেছি- ভয় পেয়েছে, ভয় পেয়ো না তোমাকে খাবো না। রাগ করে তাকালে শুনেছি-জংলি বিল্লি। রাস্তা ঘাটে কোনদিন রিল্যাক্সলি চলাফেরা করতে পারিনি বরং নো-নন্সেন্স সিরিয়াস এটিট্যুড নিয়ে চলতাম। ভাব খানা এমন যেন জাস্ট টাচ করে দেখো হাত ভেঙ্গে ফেলবো। বড় হয়ে সালোয়ার আর ঢিলাঢালা কামিজ উইথ ফুল স্লিভ, মাথায় ওড়না ছিল আমার পোশাক। কিছুই আমাদের এসব ইভ টিজিং থেকে রক্ষা করেনি।

যতদিন এই ব্যাপারে মেয়েদের পাশে সমাজ আর প্রশাসন এসে শক্তভাবে না দাঁড়াবে ততদিন এর থেকে মেয়েদের মুক্তির কোন উপায় নাই। আল্লাহ এই দেশে সব মেয়েকে নিরাপদে রাখুক।

তথ্য এবং ছবিটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *