Home / অন্যান্য / কি করছো আস্তে প্লিজ ফেটে যাবে ত, সাথেই থাকুন নিজকে ধরে রাখতে পারবেন না!

কি করছো আস্তে প্লিজ ফেটে যাবে ত, সাথেই থাকুন নিজকে ধরে রাখতে পারবেন না!

আমি রুনা, আমার বয়স ১৪ বছর। আমি নবম শ্র্রেনীতে পড়ি। পরিবারে আমার মা আর ছোট ভাই আছে। মা বেসরকারী পতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আমরা অনেক ছোট থাকতেই বাবা মারা যান। মা আমাকে প্রায়ই কারণ-অকারণে খারাপ ভাষায় বকাবকি করেন। একজন পতিতার সঙ্গে তুলনা করে গালি দেন। যা শুনতে আমার অনেক খারাপ লাগে। প্রেম ঘঠিত কোন ব্যাপার নেই আমার। আমি এসব অশ্লিন গালি আর সহ্য করতে পারছি না। কি করবো আমি? দয়া করে জানাবেন।

আমাদের বাড়িতে প্রায়ই বন্ধুরা আসা যাওয়া করত। তা নিয়েও মা আমাকে সন্দেহ করত। গালাগালি করত। তবে তাদের সাথে আমার খারাপ কোণ সম্পর্ক ছিল না। আমি তাদের সাথে খেলা করতাম। দিনভর মজা করতাম। একদিন বেলুন নিয়ে সবাই খেলা করতেছিলাম এমন সময় এক বন্ধু একটা বেলুন ফুলাতে ফুলাতে অনেক বড় করে ফেলছিল তাকে অনেক বার বললাম দোস্ত প্লিজ আস্তে আস্তে ফোলা নয়তো ফেটে যাবে কিন্তু সে কিছুতেই আমার কথা শুনছিল না। এই সবের কারনেও মা আমাকে বকা দিত। জঘন্য ভাষায় গালাগালি করে।

পরামর্শ: আপনি এতোটুকু একটা মেয়ে। এত অল্প বয়সে মা আপনাকে নোংরা ভাষায় গালাগালি করেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি কোন অবস্থাতেই আপনাকে পতিতা হিসাবে বাজে গালি দিতে পারেন না। যাই হোক, এখন আমি আপনাকে কিছু কথা বলবো। আপনি লিখেছেন যে বাসায় মা, এবং ছোট ভাই থাকেন। আবার মা ভালো একটা চাকরিও করেন। তাই বুঝতে পারছি আপনার মা সংসারের খরচ চালানোর জন্য হয়তোবা চাকরিটা করছেন। এই সমাজে নারীর জীবন অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে সেই নারী যদি স্বামীহীন হন বা সন্তানের মা হন- তাহলে জীবনটা তার জন্য মারাত্মক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

একা একা দুটি সন্তানকে মানুষ করা মোটেও সোজা কাজ নয়, যা আপনার মা করছেন। জীবনের বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতে হয়তো মায়ের ভেতরটা একেবারে ভেঙে পড়েছে। তাই তার মনের চাপা রাগ ক্রোধে এইসব বের হয়ে আসে বাজে বকাবকির মাধ্যমে। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে মা যা বলেন, তার কিছুই মন থেকে বলেন না। এবং বলার পর তারও অনেক খারাপ লাগে। কিন্তু সেই সময়ে তিনি মেজাজটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। তাই আপনার ওপরে রাগ ঝাড়েন। আপনার কিছুতেই মায়ের অবাধ্য হওয়া যাবে না। এমন কিছুই করবেন না যাতে মা রেগে যান।

উল্টো সম্ভব হলে মাকে ঘরের কাজকর্মে সাহায্য করবেন। মা যে শুধু সারাক্ষণ বকাবকি করেন, তা তো নয়। নিশ্চয়ই আদরও করেন। আর সেই আদরের সময়ে মাকে একদিন আস্তে করে বলবেন যে তিনি যে আপনাকে অশ্লিল ভাষায় গালি দেন, তাতে আপনি অত্যন্ত কষ্ট পান ও অনেক খারাপ লাগে। মা যখন শুনবেন যে আপনি কষ্ট পান এমন আচরণে, মা নিশ্চয়ই নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করবেন। আর আপনিও মাকে একটু বোঝার চেষ্টা করেন। এখন বড় হয়েছন, মাকে মা না ভেবে বান্ধবী ভাবার চেষ্টা করুন, তাহলে দেখবেন মায়ের সব ব্যথা বুঝতে পারছেন।

বিশেষদ্রষ্টব্য: তবে আমি কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক বা আইনজীবী নই। আমি কেবলই একজন সাধারণ লেখক, যিনি বন্ধুর মত সমস্যাটি শুনতে পারেন এবং তৃতীয় ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন। তবে পরামর্শ গুলো কাউকে মানতেই হবে এমনটা নয়। বরং কেউ যদি নতুন কোন দিক নির্দেশনা পান বা নিজের সমস্যাটি বলতে পেরে নিজেকে শান্তনা দিতে পারেন তাহলে সেটুকুই আমাদের সার্থকতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *