Home / মনের জানালা / স্বামীকে পরকিয়া থেকে দূরে রাখার সহজ উপায়!

স্বামীকে পরকিয়া থেকে দূরে রাখার সহজ উপায়!

ভালোবেসে হোক আর পারিবারিক ভাবেই হোক একটি মেয়ের জীবনের পথচলার সঙ্গী হয়ে থাকে তার স্বামী। তাকে ঘিরে থাকে তার অনেক স্বপ্ন। তাকে ভালোবেসে সারা জীবন পার করার প্রতিজ্ঞাও করে থাকেন। তবে অতিরিক্ত ভালোবাসা কখনো কখনো স্বামীর জন্য অসস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার একটু শান্তি খুঁজতে হয়তো অন্য কারো সঙ্গ তার ভালো লাগতে থাকে আর অর্ধাঙ্গীর সঙ্গ লাগতে থাকে অসহ্য। আবার মাঝে মাঝে অতিরিক্ত বিশ্বাস জন্ম দেয় পরকীয়ার।

পরকিয়া একটি অসামাজিক ব্যধি। এর ফলে পারিবারিক জীবনে অশান্তি নেমে আসে। স্ত্রীর উচিত স্বামী যাতে পরকিয়া লিপ্ত না হয়ে পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখা এবং প্রতিনিয়ত চেষ্টা করা। এর থেকে আপনার স্বামীকে বাঁচাতে ও আপনার সংসারের সুখ শান্তি বজায় রাখতে নিচের পরামর্শ গুলো ব্যক্তি জীবনে ট্রাই করতে পারেন। বিষয় গুলো আপনার উপকারে আসলে আমার শ্রম সার্থক হবে।

প্রশংসা করাঃ স্বামীর ভালো কাজের প্রশংসা করুণ এবং হারাম ও অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করুণ। তাঁকে বলুন যে, আমি তোমাকে আদর্শবান স্বামী হিসেবে দেখতে চায়। আমরা একসাথে জান্নাতে যেতে চাই। পাশা-পাশি তাঁর হাতের সম্পাদিত কাজেরও প্রশংসা করুণ। তিনি কোন হাতের কাজ ঠিক মতো না করতে পারলে ‘তুমি কিছুই পারনা’ এভাবে না বলে বরং বলুন “তুমি কাজটি ভালোই করতে পেরেছো কিন্তু আরেকটু ভালো করার চেষ্টা করো”। এমন কি যৌন মিলনের ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করুণ। যেমন, স্বামী যদি আপনাকে মিলনে পরিপূর্ণ আনন্দ দিতে না পারে তাহলে নিরব থাকবেন না কিংবা তাঁকে বলবেন না তুমি আমাকে আনন্দ দিতে পারোনা। এটি এভাবে না বলে বরং বলুন “তুমি আজকে আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছো আমি তোমার কাছ থেকে আরো বেশি আনন্দ পেতে চায়”।

খাবার ও পরিবেশনাঃ স্বামীর পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াতে চেষ্টা করুন। আপনার স্বামী কি ধরণের খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন সেসব খাবারের নাম কৌশলে জেনে নিন। প্রতিদিনকার মতো একই খাবার তৈরি না করে বরং খাবারের মেন্যুতে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করুণ। প্রতিদিন না পারেন অত্যন্ত সপ্তাহে দুই একবার চেষ্টা করুণ। স্বামীর সামনে খাবার পরিবেশনের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখুন। তাঁর সামনে যেন অপরিস্কার খাবারের পাত্র সমূহ না যায়।

ভালো ব্যবহারঃ স্বামীর সাথে সব সময় ভালো ব্যবহার করুণ। মিষ্টি ভাষায় কথা বলুন। কৌতুক কিংবা মজাদার কথার দ্বারা স্বামীকে আনন্দ দিতে চেষ্টা করুণ। তাঁকে খুশি করে এমন কথা বলুন। তাঁর সাথে কটু ভাষায় কথা বলা পরিহার করুণ। কাজে থেকে কিংবা দূরের কোথাও সফর থেকে ঘরে কিংবা বাসায় ফিরলে তাঁকে হাসিমুখে স্বাগতম জানান। যাতে তিনি বুঝতে পারেন তিনি ফিরে আসাতে আপনি খুশি হয়েছেন।

পরিষ্কার পরিছন্ন থাকুনঃ স্বামীর সামনে পরিষ্কার পরিছন্ন থাকার চেষ্টা করুণ। কাপড়ে ও গায়ে ময়লা লেগে থাকাবস্থায় স্বামীর সামনে না যেয়ে বরং পরিষ্কার পরিছন্ন হয়ে স্বামীর সামনে নিজেকে পেশ করুণ। ঘুমানোর পূর্বে এটি করা খুবই জরুরী। কেননা, ময়লা কাপড় ও গায়ে ঘামের দুর্গন্ধ স্বামীর মনে অনাগ্রের সৃষ্টি করতে পারে। এর কটু গন্ধের কারণে তিনি আপনার কাছে ঘেঁষতে অসুবিধা বোধ করতে পারে।

সাজ-সজ্জাঃ স্বামীর সামনে নিজেকে আকর্ষণীয় ভাবে তুলে ধরতে চেষ্টা করুণ। তাঁর সামনে সেজে গুজে হাজির হোন। যাতে তিনি আপনার রূপ সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে পারে। আমাদের দেশের নারীরা উল্টো কাজটি করে থাকে। বাড়িতে কিংবা বাসায় কেউ এলে অথবা কোথায় গেলে তাঁরা এমন ভাবে সাজ্জ-সজ্জা করে বোধ হয় মেকআপ বক্সের রং ও ময়দা সব খালি করে দিয়েছে। কিন্তু স্বামীর বেলায় অনেকে এর ২ আনাও করে না। ফলাফল স্বামীরা ঐ নারীকে দেখে আফসোস করে মনে মনে বলে আমি কেনো আগে এমন রূপসীকে বিয়ে করলাম না।

সন্দেহ : অহেতুক সন্দেহ কোনো ভালো ফলাফল টেনে আনে না। আপনি যখন আপনার স্বামীকে নানা ভাবে সন্দেহ করবেন তখন সে হয়তো আপনার ভয়ে সব কথা আপনার সাথে ভাগাভাগি করবেনা। আর এতে আপনার সাথে তার যেমন দূরত্ব বাড়বে তেমনি অন্য আরেকজনের সাথে দূরত্ব কমবে। স্বামীকে অহেতুক জেরা করবেন না। তাকে সময় দিন। তার কাছে থেকে তার কথা শুনে রাগান্বিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় তা সমাধান করুন। নয়তো আপনার এই সন্দেহ তাকে পরকীয়ার দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

কর্তৃত্ব : তার উপর নিজের মতামত চাপিয়ে দেবেন না। সেও একজন মানুষ। তার নিজেরো ভালোলাগা মন্দলাগা আছে। তাকে তা প্রকাশ করতে দিন। তার সাথে যতটা সম্ভব সময় কাটান। বিয়ে হয়ে যাওয়া মানে এই নয় স্বামীদেরি কেবল সব দ্বায়িত্ব। আপনারো কিছু দ্বায়িত্ব আছে। নয়তো অন্য কারো প্রলোভনে পড়তে পারে। তার কাছে সেই মানুষটিকেই ভালো লাগা শুরু করবে যে তার উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না। তাই স্বামীকে পরকীয়া থেকে বাঁচাতে শাসনের মনোভাব ত্যাগ করুন।

ভালোবাসা : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বিয়ের কয়েক বছর গেলেই স্ত্রী মনে করতে থাকেন যে এখন আর নিজেদের মধ্য ভালোবাসার কী আছে। তার জন্য নিজেকে আগের মত সাজিয়েগুছিয়ে রাখার কী প্রয়োজন? যদি এমনটি মনে করে থাকেন তা ভুলে যান। প্রত্যকটা মানুষই চায় তার ভালোবাসার মানুষের কাছে থেকে নতুন ভালোবাসা পেতে। স্বামী বলে আপনি তাকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাকে গিফট দিন। ক্যান্ডেল নাইট ডিনারে নিয়ে যান। তার সাথে সময় করে ঘুরতে যান। যা তাকে আপনার প্রতি আরো আকৃষ্ট করবে।

স্বামীর আত্মীয়-স্বজন : স্বামীর আত্মীয়দের মূল্যায়ন দিন। তাদের সাথে সময় কাটান। দেখবেন আপনার স্বামীর সাথেও আপনার সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *