Home / অন্যান্য / ভাইয়া আমি অসুস্থ্য আস্তে দিয়েন সহ্য করতে পারি না, দেখুন দুলা ভাইয়ের কান্ড…

ভাইয়া আমি অসুস্থ্য আস্তে দিয়েন সহ্য করতে পারি না, দেখুন দুলা ভাইয়ের কান্ড…

আমি যে কথাগুলো আপনাকে জানাচ্ছি যদি আমার পরিবার বা পরিচিত কেউ জানে তাহলে হয়ত আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে, তাই প্লিজ ভাইয়া আমার পরিচয়টা গোপন রাখবেন। বর্তমানে আমার বয়স ২১ এবং আমি এখন স্নাতক ২য় বর্ষের ছাত্রী।

আপু দুলা ভাইকে খুব ভালোবাসে এবং বিশ্বাসও করে। উনি কখনও চিন্তাই করতে পারেন না উনার স্বামী উনাকে ধোঁকা দিতে পারেন। আমি আর দুলাভাই খুব ভালো বন্ধুসুলভ ছিলাম। দুলাভাই আমার সাথে অনেক দুষ্টামি করত, আমিও অনেক মজা করতাম। তখন আমি যথেষ্ট ছোট ছিলাম, তাই কখনো তার জন্য আমার কোন রকমের ফিলিংস জাগেনি। আপুও আমাদের সাথে মজা করত। দুলাভাই আমাকে জড়ায়ে ধরত, চুমু খেত, কিন্তু আপু কখনও এসব খারাপ ভাবে দেখেনি। আমি যখন ৮ম শ্রেনিতে উঠলাম, তখন দুলাভাই আমাকে প্রপোজ করে।

যদিও বা বুঝতাম না কিছুই। তারপরও তাকে না করে দিই। এরপর বেশ কিছুদিন আমাদের কোন যোগাযোগ হয়নি। কয়েকদিন পর থেকে ভাইয়া আবার আগের যোগাযোগ করে এবং আমাকে বুঝাতে থাকে সে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমিও পরে তার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ি এবং আমাদের মাঝে সম্পর্ক হয়। সে ছিল আমার জীবনের প্রথম প্রেম, আর সেদিন গুলো ছিলো অন্য রকম ।ভাইয়া সুযোগ পেলেই আমাকে জড়ায়ে ধরত। কিন্তু এখনকার জড়ায়ে ধরাটা আগের মত ছিলনা। এইটাতে একটা অন্য রকম সাধ ছিল। সহবাস কি বুঝতাম না। কিন্তু ভিতরে শিহরনের মত কিছু হত। যখন আমাকে জড়ায়ে ধরে আদর করত, আমিও আবেগে তাকে জড়ায়ে ধরতাম। কখনো মনে হয়নি খারাপ কাজ করছি। এভাবে ২ বছর কেটে যায়। আমি ১০ শ্রেনীতে উঠলাম, অনেক কিছু বুঝতে শিখলাম। এখন সবকিছুই বুঝি। এখন মনে হয় সে যতক্ষন না এসে আমাকে আদর করে ততক্ষন আমার আর কিছু ভালো লাগেনা।

একদিন আপু আমাদের বাড়িতে এসে বাচ্ছাদের নিয়ে বেড়াতে যায়। সেই সময় দুলাভাই আমাকে বাহিরে ঘোরার নাম করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কেউ ছিল না। সেদিন আমাকে দুলাভাই অনেকক্ষন ধরে আদর করে। তারপর সেই দিনই আমাদের শারীরিক রিলেশন হয়। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করছি, নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। আমার মাথায় কোন কিছুই আসত না। চিন্তা এবং ভয়ে আমি অসুস্থ্য হয়ে পরি। সেই দিন থেকে শুরু হল আমাদের শারীরিক মিলন। প্রায় ২-১ দিন পর পরই আমরা শারীরিক রিলেশন করতাম।

কিন্তু এখন আমি বাস্তবতা বুঝি, এখন রিলেশানে এমন সব সমস্যা ফেস করছি যা আমি মেনে নিতে পারছিনা। আমার আপুটা অনেক ভালো মানুষ। উনাকেও আমি এখন দুলাভাই এর সাথে ক্লোজলি দেখতে পারছিনা। আমার নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। নিজের প্রতি নিজেরই ঘেন্না আসে। মনে হয় আমি নিজে ১টা মেয়ে হয়েও অন্য মেয়ের জীবনটাকে নরক বানাতে যাচ্ছি। আর এমন একজন কে কষ্ট দিতে যাচ্ছি যে আমাকে অনেক আদর করে, বিশ্বাস করে।

আগে যদি বুঝতাম, তাহলে কখনও এমন পথে পা বাড়াতাম না। মাঝে মাঝে নিজের মনকে বুঝাই, দুলাভাইও তো আমাকে অনেক ভালোবাসে”। ওর কোন ব্যবহারে আমার মনে হয়নি সে আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে, সবসময় মনে হয় ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমার কথার দাম রাখে। এক কথায় ওর লাইফে আমার প্রাধান্য আছে। কিন্তু যখন ওকে আপুর সাথেও অনেক হ্যাপি দেখি, তখন মন মানতে চায় না। তখন ভাবি এটা কিভাবে সম্ভব? একসাথে কি দুজন কে ভালোবাসা যায়? বলে রাখা ভালো, আমাদের রিলেশান এর আগে তার ২টা জমজ মেয়ে ছিলো।

আমাদের সম্পর্কের পর তার ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে হয়। তিনি ভালো চাকুরী করে। পাশাপাশি ছোটো খাটো ব্যবসাও আছে। আমাকে বিয়ে করলে সে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে যাবে। আমি আমার পরিবারের একমাত্র মেয়ে ,আমার বড় ভাই আছে সে বিবাহিত। পরিবারের সবাই আমাকে খুব ভালো মেয়ে হিসেবে জানে। আর আমার ফ্যামিলি কখনোই এই বিয়ে মেনে নিবে না ,কখনোই না, কোনোমতেই না। জীবনের এই অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছি না। খুব অসহায় লাগছে নিজেকে। রাতে ঘুমাতে পারি না। মানসিক যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছি।

পরামর্শ:-
বয়সের দোষে হোক বা আবেগের বসে হোক, আপনি ভীষণ বড় একটা অন্যায় করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন। সবচাইতে বড় কথা, আপনি নিজেকে ভিষন ভাবে ঠকাচ্ছেন। আমি বুঝতে পারছি না, লোকটি যে আপনাকে বোকা বানাচ্ছে, কেবল নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে এটা কি আপনি বুঝতে পারছেন না? সে আপনাকে জীবনের শুরু থেকে ব্যবহার করে এসেছে। সেটাও শুধু মাত্র শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য।একজন মানুষ কখনো দুজনকে ভালবাসতে পারে না। যদি কেউ এমন দাবী করে, এর অর্থ সে কেবল নিজেকেই ভালোবাসে।

একটা সহজ জিনিস আপনি কেন বুঝতে পারছেন না যে স্ত্রীর সাথে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। তিনি আপনাকে যেমন গুরুত্ব দেন ভালোবাসায় ভুলিয়ে রাখেন, ঠিক তেমন করে স্ত্রীর সাথেও একই কাজ করেন। আর করে বলেই স্ত্রী তাঁর ভালোবাসায় এমন পাগল। একবার ভাবুন তো, আপনি তাঁকে ভালোবাসেন। এখন যদি অন্য কারো সাথে আপনার বিয়ে হয়, আপনি কি সেই লোকটির সাথে ভালোবাসার অভিনয় করতে পারবেন?

আপনার এই দুলাভাইও যদি আপনাকে ভালোবাসতো, স্ত্রীর সাথে তাঁর এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকতো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *