Home / ত্বকের যত্ন / ৩০-এর পরেও ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে কী করতে হবে? জেনে নিন!

৩০-এর পরেও ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে কী করতে হবে? জেনে নিন!

একাধিক স্টাডি অনুসারে এদেশে যেহারে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে তার সরাসরি প্রভাব পরছে ত্বকের উপর। সেই সঙ্গে স্ট্রেসের মাত্রা বাড়ার কারণে অসময়ে ত্বকও যাচ্ছে বুড়িয়ে। আর ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া মানে বলিরেখা প্রকাশ পাওয়া। ফলে সৌন্দর্য কমতে সময় লাগে না।

এমনটা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। কিন্তু আপনি যদি চান, তাহলে বয়স বাড়লেও আপনার ত্বক কিন্তু থাকবে সুন্দর এবং তুলতুলে। কীভাবে এমনটা সম্ভব তাই ভাবছেন তো? আসলে যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে অসময়ে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার পিছনে স্ট্রেস এবং পরিবেশ দূষণ সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দায়ি থাকে। তাই কোনওভাবে যদি স্ট্রেস কমাতে পারেন এবং পরিবেশ দূষণের খারাপ প্রভাব থেকে ত্বককে বাঁচাতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! আর কীভাবে করবেন এই কাজটা?

এই উত্তর পেতেই নজর রাখতে হবে বাকি প্রবন্ধে। আসলে এই প্রবন্ধে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যেগুলি পরিবেশ দূষণের কোনও খারাপ প্রভাব ত্বকের উপর পরতে দেবে না। সেই সঙ্গে কিছু সহজ নিয়মের উপরও আলোকপাত করা হল, যে নিয়মগুলি মানলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে একেবারেই সময় লাগবে না। তাহলে আর অপেক্ষা কেন? ৩০-এর পরেও ত্বককে উজ্জ্বল এবং প্রণবন্ত রাখতে কী কী করতে হবে, তা জেনে নিন এই প্রবন্ধটি চটজলদি পড়ে ফেলে।

এক্ষেত্রে যে যে নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে, সেগুলি হল…

১. যতটা সম্ভব চিনি কম খাওয়া জরুরি:
একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে দেহের অন্দরে চিনির মাত্রা বাড়তে থাকলে গ্লাইকেশন নামে একটা ঘটনা ঘটে থাকে। এই সময় চিনি, ত্বকের অন্দরে জলের মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে স্কিনের আদ্রতা হারিয়ে যায়। আর এমনটা হলে বলিরেখা প্রকাশ পেতেও সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই আজীবন যদি ত্বককে সুন্দর রাখতে চান, তাহলে চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। তাহলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

২. প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে:
ত্বক তখনই বুড়িয়ে যায়, যখন স্কিন নিজের আদ্রতা হারাতে থাকে। এই কারণেই তো ত্বককে সুন্দর রাখতে বেশি মাত্রায় জল খাওযার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আসলে দেহের অন্দরে জলের ঘাটতি দূর হলে ত্বকের আদ্রতাও বজায় থাকে। ফলে স্কিনের ইলাস্ট্রিসিটির এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে সৌন্দর্য তো কমেই না। উল্টে বয়সের কোনও ছাপই পারে না ত্বকের উপর। তাই তো দিনে কম করে ৩-৪ লিটার জল খেতে ভুলবেন না যেন!

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর ঘাটতি যেন না হয়:
ত্বকের অন্দরে টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। তাই এমনটা যাতে আপনার ত্বকের সঙ্গে না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কোনও বকল্প হয় না বললেই চলে। তাই যে যে খাবারে এই দুই উপাদান রয়েছে, তা বেশি করে খেলে ত্বকের গভীরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য কমার আশঙ্কা যায় কমে। প্রসঙ্গত, যে যে খাবারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বেশি থাকে, সেগুলি হল- জাম, ডার্ক চকোলেট, বিনস, রাজমা, কিশমিশ, টমাটো, ব্রকলি, কাজু বাদাম প্রভৃতি।

৪. প্রোটিনের ঘাটতি:
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দেহের অন্দরে প্রোটিনের মাত্রা কমতে থাকলে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে স্ট্রেসের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে তার সরাসরি প্রভাবে পরে ত্বকের উপর। আসলে স্ট্রেস লেভেল বাড়লে মস্তিষ্কে কর্টিজল নামক একটি হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ত্বক বুড়িয়ে যেতে থাকে। এই কারণেই তো ত্বককে সুন্দর রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডার্মাটোলজিস্টরা।

৫. ঘুমের ঘাটতি মানেই ত্বকের মৃত্যু:
আসলে ঘুমনোর সময় আমাদের দেহের অন্দরে থাকা চিকিৎসকেরা সারা দিন ধরে শরীর এবং ত্বকের অন্দরে সৃষ্টি হওয়া ক্ষতদের চিকিৎসা করা শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন দেহের ভাঙন রোধ হয়, তেমনি অসময়ে ত্বকের সৌন্দর্য কমে যাওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তাই তো ত্বককে সুস্থ রাখতে কম করে ৮ ঘন্টা ঘুমতেই হবে। আর যদি এমনটা করতে না পারেন, তাহলে সৌন্দর্য তো কমবেই, সেই সঙ্গে ব্লাড প্রেসার, হার্টের রোগ সহ নানাবিধ জটিল অসুখ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যাবে বেড়ে।

প্রসঙ্গত, বশ কিছু খাবারও আছে যা নিয়মিত খেলে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া আশঙ্কা একেবারে শূন্যে এসে দাঁড়ায়। এই যেমন ধরুন…

১. ডালিম:
এই ফলটি নিয়মিত খেলে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের অন্দরেও রক্তের প্রবাহ বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না।

২. ডিম:
একেবারে ঠিক শুনেছেন! ত্বককে সুন্দর রাখতে বাস্তবিকই ডিমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে নিয়মিত একটা করে ডিম খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে প্রোটিনের ঘাটতি কমতে শুরু করে। আর যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে শরীরে যখন প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়, তখন ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বাড়তে সময় লাগে না।

৩. সবুজ শাক-সবজি:
এই ধরনের খাবারে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকে, যা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই ত্বককে যদি সুন্দর রাখতে হয়, তাহলে রোজের ডায়েটে সবুজ শাক-সবজিকে জায়গা করে দিতে ভুলবেন না যেন!

সূত্র: বোল্ডস্কাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *