Home / মা ও শিশুর যত্ন / সন্তান ধারণের উপযুক্ত সময় কখন? জানেন কি?

সন্তান ধারণের উপযুক্ত সময় কখন? জানেন কি?

গর্ভধারণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় জেনে নিতে মায়ার জনপ্রিয় ওভুলেশন ক্যাল্কুলেটর ব্যহার করুন। এর মাধ্যমে আপনার ডিম্বস্ফোটনের সময় গণনা করুন এবং স্বামীর সাথে কখন মিলিত হলে গর্ভবতী হওয়ার সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনা আছে তা জেনে নিন। ডিম্বস্ফোটনের সাত দিন ব্যাপী সময়ের মধ্যে স্বামীর সঙ্গে মিলন হলে একজন স্ত্রীর গর্ভবতী হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী। সাধারণত: শেষ মাসিকের ১২ দিন এই সময় আসে।

একটি ডিম্বানু ডিম্বাশয় থেকে নির্গত হওয়ার পর ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকে। গর্ভধারণের লক্ষ্যে এ সময়ের মধ্যে ডিম্বাণুটিকে শুক্রাণুর সাথে মিলিত হতে হবে। এমন কোন তখা নেই যে যেই দিন ডিম্বস্ফোটন হয় শুধু সেই দিন মিলিত হলেই আপনি গর্ভবতী হতে পারবেন। একজন নারীর শরীরে শুক্রাণু ৪-৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এই কারণে ডিম্বস্ফোটনের ৪-৫ দিন মিলন হলেও শুক্রানুটি ডিম্বাণুর জন্যে ডিম্বনালীর ভেতরে অপেক্ষা করে থাকতে পারে।

ডিম্বস্ফোটন কখন হয়
ডিম্বস্ফোটনের সঠিক সময় নির্ধারণ সম্ভব না, যদি না আপনি ফার্টিলিটি সচেতন হোন। অধিকাংশ নারীর মাসিক শুরুর ১০-১৬ দিন আগে ডিম্বস্ফোটন হয়।

আরও পরিস্কার করে বলতে গেলে মাসিকের প্রথম দিন থেকে একজন নারীর মাসিক চক্র গণনা করা হয়। এর কিছুদিন পর তার ডিম্বাস্ফোটন হয় এবং তার ১০-১৬ দিন পর তার আবার মাসিক হয়। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী মাসিকের গড় চক্রকাল হচ্ছে ২৮ দিন অন্তর অন্তর। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর কিছু বেশি অথবা কম সময়েও মাসিক হতে পারে, যা অস্বাভাবিক নয়। ডিম্বোস্ফোটন ঠিক কখন হয় তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়, তবে এটা বলা ভুল হবে যে সব মহিলারই মাসিক চক্রের ১৪ দিনের দিন ডিম্বোস্ফোটন হয়।

যে মহিলাদের মাসিক নিয়মিত হয় এবং মাসিক চক্র ২৮ দিন তাদের বেলায় এটি সঠিক, তবে যে মহিলাদের মাসিক চক্র এর থেকে ছোট, বা লম্বা বা অনিয়মিত, তাদের বেলায় এটি প্রয়োজ্য নয়। আপনার মাসিক চক্র যদি ৩৫ দিনের হয়, তাহলে আপনি উর্বর থাকবেন আপনার মাসিক চক্রের ১৯ দিন থেকে ২৫ দিনের আশেপাশে, ১৪ দিনের দিন নয়। আবার আপনার মাসিক চক্রি যদি ছোট হয়, ধরুন ২৩ দিন, তাহলে আপনার হয়তো ডিম্বোস্ফোটন হবে আপনার মাসিক চক্রের ৭-১৩ দিনের মধ্যে এবং আপনি সেই সময়টুকু উর্বর থাকবেন।

আগে যেমন বলা হয়েছে, একজন মহিলার শরীরে শুক্রানু ঢোকার পর তা ৪-৫ দিন বেঁচে থাকে। আপনি যদি গর্ভবতী হতে চান, তাহলে আপনাদেরকে এক-দুই দিন পর পর মিলিত হতে হবে। এর ফলে আপনার যখনই ডিম্বোস্ফোটন হয়ে ডিম্বাণু নি:সরণ হোক না কেন, সব সময়ই শুক্রানু আপনার ডিম্বোনালীতে থাকবে এবং আপনার ডিম্বানুর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে। যে মহিলাদের মাসিক চক্র অনিয়মিত তাদেরকে এই পদ্ধতি মেনে চলতে বলা হয়। এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জেনে নিন স্বামী-স্ত্রীর মিলন অধ্যায়ে। আপনি যদি মনে করেন যে, আপনি গর্ভবতী, তাহলে গর্ভধারণের লক্ষণসমূহ জেনে নিন, এবং কি কি টেস্ট করে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হবেন তা জানুন।

গর্ভাবস্থা যেভাবে এড়িয়ে চলবেন
আপনি যদি গর্ভাবস্থা এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে বিভিন্ন রকমের গর্ভনিরোধ পদ্ধতি আছে যা আপনি ব্যবহার করতে পারেন। আপনাদের মত দম্পতির জন্য কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে উপযুক্ত তা জেনে নিন। কনডম হচ্ছে একমাত্র গর্ভনিরোধ পদ্ধতি যা গর্ভাবস্থা এবং যৌনরোগ সংক্রমণ দুটোই প্রতিরোধ করে। ঠিক কখন আপনার ডিম্বোস্ফোটন হবে তা সঠিকভাবে জানা কষ্টকর ব্যাপার। তাই আপনি যদি গর্ভাবস্থা এড়িয়ে চলতে চান, অনিরাপদ মিলন করার জন্য মাসিক চক্রে কোন নিরাপদ সময় ঠিক নেই। যে নারী গর্ভবতী হতে চাইছেন না, তার অনিরাপদ মিলনের ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। যে মহিলার মাসিক চক্র ছোট তিনি মাসিকের সময় সহবার করলেও তার গর্ভাবস্থার ঝুঁকি থাকে। এর কারণ পুরুষের শুক্রানু একজন নারীর ডিম্বনালীতে প্রায় ৭ দিন পর্যন্ত বেচেঁ থাকতে পারে। এবং যে মহিলার মাসিক চক্র ছোট তার শরীরে মাসিক শেষ হওয়ার পরপরই ডিম্বোস্ফোটন হতে পারে। আপনার যোনীপথে যে লালা নি:সরণ হয়, তা মাসিক চক্রের সাথে সাথে বদল হয়। যখন আপনার ডিম্বোস্ফোটনের সময় ঘনিয়ে আসে, তখন এই লালা পাতলা এবং পিচ্ছিল হয়ে যায়, অনেকটা ডিমের সাদার মত। আপনার শরীরের তাপমাত্রা ০.৪-০৬ ডিগ্রি ফারেন হাইট বেড়ে যায় যখন আপনার ডিম্বোস্ফোটন হয়। আপনি যদি ৪ থেকে ৫ মাস এই সব লক্ষণসমূহ তীক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করেন এবং আরও আরও যে শারীরিক লক্ষণ হয়, সেই সব যদি দেখেন-যেমন তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি, তাহলে আপনি নিজেই মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন আপনার কখন ডিম্বোস্ফোটন হচ্ছে। আপনি যদি নিজে এটি করতে না পারেন বা আপনার যদি এই সময় গণনা করতে সমস্যা হয়, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন অথবা আমাদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

আপনার শরীরের লক্ষণসমূহ ১০০% নির্ভরযোগ্য নয় এবং সেই কারণে আপনাকে সব সময় যে কোন রকমের গর্ভনিরোধ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। সবচেয়ে কার্যকরী গর্ভনিরোধ পদ্ধতি হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী প্রতিবর্তনসাধ্য গর্ভনিরোধ পদ্ধতি যেমন- ইঞ্জেকশান, ইমপ্ল্যান্ট, আই-উই-এস এবং আই-ইউ-ডি।

জরুরী গর্ভনিরোধ পদ্ধতি
আপনি যদি অনিরাপদ মিলন করে থাকেন অথবা আপনার গর্ভনিরোধ পদ্ধতি যদি ঠিক মত কাজ না করে থাকে, তাহলে তখন আপনাকে জরুরী গর্ভনিরোধ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে অপরিকল্পিত গর্ভাবস্থা প্রতিরোধ করার জন্য। এটি দুই রকমের পদ্ধতি আছে। জরুরী গর্ভনিরোধ পিল-যাকে মাঝে মাঝে

বলা হয় মনিং-আফটার পিল এবং এই পিলটি আপনাকে সেবন করতে হবে অনিরাপদ সহবাসের ৭২ ঘন্টার মধ্যে। আই-ইউ-ডি যা আপনার জরায়ুতে ঢুকিয়ে দিতে হবে

অনিরাপদ মিলনের ৫ দিনের মধ্যে অথবা আপনি যেই দিন মনে করছেন যে আপনার ডিম্বোস্ফোটন তার ৫ দিনের মধ্যে। এই মর্নিং-আফটার পিল আপনি পেতে পারেন ঢাকার যে কোন ফার্মেসী/ ওষুধের দোকানে। আপনি যদি আই-ইউ-ডি আপনার জরায়ুতে ঢুকিয়ে নিতে চান, তাহলে তা অবশ্যই হতে হবে একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের হাতে। এর জন্য আপনাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে না, কিন্তু এটি দীর্ঘ সময় আপনার গর্ভাবস্থা প্রতিরোধ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *