Home / মা ও শিশুর যত্ন / সন্তানকে মিথ্যা বলা থেকে দূরে রাখতে চান? নিজের এ ভুলগুলো শুধরে ফেলুন

সন্তানকে মিথ্যা বলা থেকে দূরে রাখতে চান? নিজের এ ভুলগুলো শুধরে ফেলুন

বাচ্চাদের বন্ধু হবার চেষ্টা করুন, এতে করে অনেক সমস্যা তুচ্ছ হয়ে যাবে। শিশু মাত্রই অনুকরণপ্রিয়। আজ আপনি যেভাবে কথা বলছেন, যেভাবে চলছেন, যেভাবে খাচ্ছেন এমনকি যেমন ব্যবহার করছেন সবই শিশুরা একটু একটু করে রপ্ত করে ফেলে। সুতরাং, আপনার শিশুর বেড়ে ওঠা, চালচলন এবং ব্যবহার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আপনার ওপরেই নির্ভরশীল।

মিথ্যা কথা বলা কেউই পছন্দ করেন না। আমরা চাই আমাদের শিশুরাও যেন মিথ্যা ও সকল অপকর্ম থেকে দূরে থাকে। কিন্তু একটা ব্যাপার বললেই কিন্তু ঘটে যাবে না। সে অনুশীলন ও চর্চা ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। আপনি যদি সন্তানকে যেকোন ধরনের মিথ্যা থেকে দূরে রাখতে চান, সেক্ষেত্রে আপনার নিজের এ ভুলগুলো শুধরে ফেলুন আজই। খুব একটা কঠিন কাজ নয় কিন্তু। চলুন তবে জেনে আসা যাক-

শিশুরা যেকোন কিছুর ফলাফল জানে

বাচ্চাদের মিথ্যা বলার একটি অন্যতম কারণ হলো যে তারা জানে সত্য কথা প্রকাশ করলেই শাস্তি পেতে হবে। তাদের সত্য বলতে উৎসাহিত করুন। শাস্তির পরিমাণ কমিয়ে দিন যেন আপনার সন্তান এটিকে ভয় না পায়।

শিশুরা আপনাকে মনঃক্ষুণ্ণ করতে চায় না

আপনার সন্তান আপনাকে ভালোবাসে এবং এজন্যেই সে আপনাকে কোন রকম কষ্ট দিতে চায়না। তাদের সত্য প্রকাশে আপনার অভিব্যক্তি স্বাভাবিক ও সহজ রাখুন। তাহলে সত্য বলতে সে কখনো কুণ্ঠাবোধ করবে না।

শিশুরা কল্পনা করতে ভালোবাসে

মাঝেমধ্যে শিশুরা বাস্তব কোন কিছু ঘটার জন্য কল্পনাপ্রবণ কথা বলতে ভালোবাসে। যেমন, তার যখন কোন ভাই-বোনের প্রয়োজন হয় কিংবা সে দূরে কোথায় ঘুরতে যেতে চায়। তখন মনগড়া অনেক কিছু বানিয়ে বলার চেষ্টা করে। এসব মিথ্যাকে বুঝতে চেষ্টা করুন। অনর্থক বকাবকি না করে সন্তানের বন্ধু হয়ে যান।

বাচ্চারা ভুলে যাওয়ার কারণে মিথ্যা বলতে পারে

কিছু কিছু পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যখন বাচ্চারা মিথ্যা বলে এবং নিজেরাই সেটি বিশ্বাস করে বসে। এমন মিথ্যাচারে ভয় পাবেন না। সময় নিয়ে তাদের বোঝান এবং পরিস্থিতি সামলে নিন।

শিশুরা মনে করে মিথ্যা কথা বলাই ভদ্রতা

মাঝে মাঝে শিশুরা মনে করে মিথ্যা বলাই সঠিক। দাদির বুনে দেওয়া মোজা পেয়ে হয়তো সে খুব একটা খুশি হয়নি, তবুও ভদ্রতার খাতিরে শুভেচ্ছা জানায়। এ কাজ ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলেই কিন্তু করে থাকে!

সঠিক উত্তরের জন্য কসরত করতে হবে আপনাকেই

আমরা আমাদের শিশুকে যখন প্রশ্ন করি, তখন এক শব্দের উত্তর আশা করি। উদাহরণস্বরুপ, প্লেটে খাবার তুলে দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করি, কেমন হয়েছে খাবারটি? হয়তো তখন তার একদমই ভালো লাগছে না খেতে, কিন্তু সেটা আমাদের মাথায়ই কাজ করেনা। তার চেয়ে বরং আমাদের জিজ্ঞেস করা উচিৎ, ‘তুমি অন্য কি খেতে চাও’ সেক্ষেত্রে আপনি হয়তো সৎ ও পরিপুর্ণ উত্তর আশা করতে পারেন।

আমরা নিজেরাই নিজেদের মিথ্যা বলি

একটি শিশু তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে সবকিছু নকল করে। মিথ্যার জগতে বাস করে, সে নিজেও সত্য কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এটির সমাধান সহজ এবং কঠিন ও। নিজের সঙ্গে সৎ হয়ে যান, দেখবেন সন্তান ও তেমন ব্যবহার করছে।

বাচ্চারা মনে করে তারা প্রচণ্ড নির্বোধ

আপনি যদি আপনার সন্তানকে নির্বোধ মনে করেন এবং তার সঙ্গে সব সময় চিৎকার করেন ও দোষারোপ করেন তবে সে কখনো বুঝতে শিখবেনা কোনটি উত্তম ও সঠিক। সত্য বলাও কিন্তু এর মধ্যেই পড়ে।

বাচ্চাদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলুন যেন তারা আপনারই বয়সী। তাদের দোষারোপ না করে ভুল কোনটি, সেটি ভালোমতন শিক্ষা দিন। এতে করে তারা পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠবে এবং সত্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *