Home / মনের জানালা / যে লক্ষণগুলো জানিয়ে দেবে সাধারণ মানুষের তুলনায় আপনি মানসিকভাবে দৃঢ়!

যে লক্ষণগুলো জানিয়ে দেবে সাধারণ মানুষের তুলনায় আপনি মানসিকভাবে দৃঢ়!

যদি প্রশ্ন করা হয়- আপনি নিজেকে একজন দৃঢ় মানসিকতার মানুষ হিসেবে মনে করেন কি না, তবে উত্তরে কী বলবেন? সাধারণত জীবনের নানান রকম ঘটনা-দূর্ঘটনা এবং অভিজ্ঞতার জন্যে প্রত্যেকটি মানুষের বয়স এবং সময়ের সাথে সাথে মানসিক পরিপক্বতা চলে আসে। তবে মানসিক পরিপক্বতা এবং মানসিক দৃঢ়তা এক কথা নয়! কারোর সামনে নিজেকে অনেক কঠোর একজন ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ করার মাধ্যমে কিন্তু মোটেও মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশ পায় না। নিজেকে পরিণত করে গড়ে তোলা, আবেগ নয় বুদ্ধি দিয়ে সকল পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রকাশ করা, যে কোন কিছুকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে শেখার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তির মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। মানসিকভাবে দৃঢ় হওয়ার ব্যাপারটি কিন্তু কারোর মাঝে জন্ম থেকেই থাকে না। নিজের মাঝে এই ব্যাপারটি গড়ে তুলতে হয়।

জীবনের নানা ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে দৃঢ় মানসিকতার একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। যা একজনের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করে। যারা মানসিকভাবে দৃঢ় হয়ে থাকেন, তাদের সকলের মাঝেই কিছু লক্ষণ অহরহ দেখা যায়। মিলিয়ে দেখুন তো আপনার সাথেও লক্ষণগুলো মিলে যায় কী না!

তারা জানেন কীভাবে আবেগ এবং যুক্তির মাঝে সমতা রাখতে হয়

আবগে এবং যুক্তির মাঝে সমতা রাখার অর্থ এই নয় যে- তারা তাদের জীবনের যেকোন সিদ্ধান্ত হয় যুক্তি অথবা আবেগ দ্বারা নিয়ে থাকেন। বরং তার এই দুইয়ের সমন্বয়ে তাদের সিদ্ধান্ত তৈরি করে থাকেন। যারা মানসিকভাবে দৃঢ় হয়ে থাকেন তারা জানেন, কীভাবে যুক্তি এবং আবেগের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়!

তারা নিজেদের সময় সদ্ব্যবহার করেন

যখন অনেকেই নানান রকম বাহানা খুঁজে থাকে কাজ না করার জন্য, তখন তারা নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করতে এবং সেই কাজগুলো যেকোন ভাবেই হোক শেষ করার জন্যে চেষ্টা করতে থাকেন এবং তাদের পরিকল্পনা মতো কাজ করতে শুরু করেন।

নিজের উপরে তারা বিশ্বাস রাখেন- যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন

জীবন পরিবর্তনশীল। প্রতিটি মুহূর্তে সময়ের সাথে সাথে জীবনের অনেক কিছুতেই পরিবর্তন এসে থাকে। মানসিকভাবে দৃঢ় ব্যক্তিরা সকল পরিস্থিতিতে, সকল সময়েই নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন এবং খুব দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন।

তারা নিজেদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে জানেন

মানসিকভাবে দৃঢ় ব্যক্তিরা যে কোন কিছুর ক্ষেত্রেই নিজের মতামত এবং বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিতে জানে এবং তার উপরে ভিত্তি করেই কাজ করতে পছন্দ করেন। তারা জানেন যে তারা যে সিদ্ধান্ত তৈরি করেছেন সেটা সঠিক। একইসাথে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, জীবনে কাকে তারা অগ্রাধিকার দেবেন এবং দেবেন না।

অন্যের উন্নতিতে তারাও খুশি হন

সাধারণত সকলের ক্ষেত্রে যেটা হয়, অন্যের ভালো কোন ঘটনা দেখলে বিশেষ করে অন্যের উন্নতিতে নিজের মন খারাপ হয়ে যায়। যদিও এই ব্যাপারটা কেওই প্রকাশ করতে চান না। তবে মানসিকভাবে যাদের মধ্যে অনেক দৃঢ়তা থাকে, তারা অন্যের উন্নতি দেখে সত্যিকার অর্থেই খুশি হন, আনন্দিত হন। তারা জানেন যে, অন্য একজন জীবনে ভালো করলে তার জীবনে সেটার কোন প্রভাব পড়বে না। নিজের উন্নতি নিজেকেই করতে হবে এবং সেটা কীভাবে করতে হয় সেটাও তারা খুব ভালোমতো জানেন।

তারা নিজেদের “ভয়” এর মুখোমুখি হতে পিছপা হন না

বেশীরভাগ মানুষ তাদের “ভয়”গুলোর মুখোমুখি হতে চাননা। কিছু সংখ্যক মানুষ অন্যদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য লোকদেখানো ভাব নিয়ে নিজের ভয়ের ব্যাপারটির মুখোমুখি হন। তবে ব্যতিক্রম তারা যাদের মানসিক দৃঢ়তা অনেক বেশি। কারোর কাছেই নিজেদের প্রমাণ করার কোন প্রয়োজন নেই তাদের। নিজেদের ভয়কে কাটানোর জন্যে তারা যে ব্যাপারটিতে ভীত থাকেন, সেটার মুখোমুখি হয়ে থাকেন এবং সেটা নিয়ে কাজ করে থাকেন।

নিজেদের ভুলগুলো থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করেন

নিজের ভুল স্বীকার করতে আপনি যখন নারাজ, তখন একজন মানসিকভাবে দৃঢ় ব্যক্তি তার ভুলগুলোকে স্বীকার করে সেই ভুলগুলো শোধরানোর জন্য চেষ্টা করেন।

নিজেদের অর্জনের জন্য নয়, সাধারণ একজন মানুষ হিসেবেই নিজেকে তারা মূল্যায়ন করেন

মানসিকভাবে দৃঢ় ব্যক্তিরা নিজেদেরকে মূল্যায়ন করেন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে। বিশেষ করে তারা নিজেরা যেমন, তেমনভাবেই নিজেদেরকে তারা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাদের কোন অর্জন কিংবা তাদের জীবনের কোন হার-জিত দিয়ে নিজেদের তারা মূল্যায়ন করেন না।

জীবনের প্রতিবন্ধকতা গুলোকে তারা “সুযোগ” হিসেবে দেখেন

মানসিকভাবে দৃঢ় মানুষগুলোর কাছে জীবনের প্রতিবন্ধকতা গুলো আরও নতুন কিছু জানার এবং শেখার সুযোগ হিসেবে ধরা দেয়। যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিবন্ধতা মানেই যন্ত্রণা, বিরক্ত হবার উপকরণ সেখানে তাদের কাছে প্রতিবন্ধকতা মানেই নতুন চ্যালেঞ্জ।

তারা সেখানেই তাদের লক্ষ্য স্থির করেন যেটা তারা ভালো পারেন

খেয়াল করলে দেখা যাবে, যাদের মানসিক দৃঢ়তা অনেক বেশী তারা জীবনে অন্য সকলের তুলনায় বেশী সফলতা অর্জন করে থাকেন। এর মূল কারণ হলো, তারা ঠিক সেখানেই তাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন যেটাতে তাদের অনেক আগ্রহ, জ্ঞান, কাজ করার ইচ্ছা এবং দক্ষতা রয়েছে।

তারা জানেন হেরে গেলেও কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়

জীবনের অন্যতম একটা সাধারণ ব্যাপার হলো, সবসময় কেউ তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করবে না। এই ব্যাপারটি খুব সাধারণভাবে নিতে পারা এবং অসফলতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করার উদ্যম মানসিকভাবে যাদের মধ্যে অনেক দৃঢ়তা থাকে, তাদের জন্য খুবই সহজ হয়।

তারা নিজেদের দুর্বলতাগুলো দূর করার চেষ্টা করেন

অন্য সকলের মতো নিজেদের দূর্বলতাগুলো কে লুকিয়ে না রেখে বরং নিজেদের দূর্বলতাগুলোকে দূর করার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন মানসিকভাবে দৃঢ় ব্যক্তিরা। তারা জানেন, তাদের এই দূর্বলতাগুলো দূর করার চেষ্টা না করলে সেটা তাদের ভবিষ্যৎ এর জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।

যে কোন সমস্যা সমাধান করতে তারা প্রস্তুত থাকেন

অনেকের মাঝেই একটি প্রবণতা দেখা যায়- খুব সামান্য অথবা ছোট কোন ব্যাপারকে তারা সমাধান করার চেষ্টা না করে অনেক বড় একটা ঘটনা বানিয়ে ফেলেন। কিন্তু মানসিকভাবে দৃঢ় যারা হয়ে থাকেন তার যে কোন ঘটনা অথবা সমস্যাঢ় সমাধানের জন্য চেষ্টা করেন।

তারা সবসময় নতুন কিছু শিখতে প্রস্তুত থাকেন

নতুন দিন, নতুন মানুষ, নতুন পরিস্থিতি, নতুন ঘটনা, নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন সম্ভবনা এবং নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ। যাদের মানসিক দৃঢ়তা অনেক চমৎকার থাকে, তারা যে কন সময়ে নতুন কিছু শেখার জন্য, জানার জন্য প্রস্তুত থাকেন।

মানসিক দৃঢ়তা একটি গুণ যা সচরাচর সকলের মাঝে দেখা যায় না। এই গুণটি কে নিজের মাঝে তৈরি করতে হয় এবং সেটাকে যত্ন নিয়ে গড়ে তুলতে হয়। একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে সকলের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মানসিকভাবে দৃঢ় হওয়া আবশ্যক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *