Home / Uncategorized / ভালোবাসার মানুষটির সাথে বন্ধুত্বের ৭ সূত্র!

ভালোবাসার মানুষটির সাথে বন্ধুত্বের ৭ সূত্র!

একে অপরকে সমর্থন করুণ এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখুন- এভাবেই আপনাদের মধ্যে গড়ে উঠবে দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ছবি কৃতজ্ঞতা: নূর।

(প্রিয়.কম) অন্যান্য সকল সম্পর্কের ভিড়ে ভালোবাসার মানুষটির সাথে সম্পর্কটি হয় সবচেয়ে সুন্দর, দারুণ এবং অনন্য! কিন্তু, আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাথে আপনার ভালোবাসার সম্পর্কটি কেমন হবে সেটি নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের উপর। এই সম্পর্কটি আপনার জন্য হতে পারে অন্যতম দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ, আনন্দদায়ক এবং চমৎকার একটি সম্পর্ক। সেজন্য পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, সম্মান, ভালোবাসা থাকা তো অবশ্যই জরুরি, সাথে আরো কিছু ব্যাপার থাকে যেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ সকলের।

আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাথে আপনার ভালোবাসার সম্পর্কটি কীভাবে একটা দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হতে পারে জেনে নিন এই সাতটি বিষয় থেকে-

১/ তাঁকে বদলানোর চেষ্টা করা বাদ দিন

একজন মানুষকে এবং তার অভ্যাস, তার পছন্দ সর্বোপরি সম্পূর্ন মানুষটাকেই বদলানোর চেষ্টা করা খুব একটা শোভনীয় কিছু নয়। তাই ভালোবাসার সম্পর্কের মাঝে একে অন্যকে বদলানোর চেষ্টা করা বাদ দিয়ে দিতে হবে। আপনি যদি মনে করে থাকেন যে, আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে বদলালে আপনার সম্পর্কের ক্ষেত্রে উন্নতি হবে, তবে সেক্ষেত্রে আপনার নিজের চিন্তাধারাই সবার আগে বদলাতে হবে! ভালোবাসার মানুষটির পছন্দ, ইচ্ছা, শখ অথবা অভ্যাস হুট করে মানসিক চাপ দিয়ে বদলানোর চেষ্টা করলে সেক্ষেত্রে সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হবে। তাই, দুইজনে মিলেই দুইজনের পছন্দ-অপছন্দকে জানুন, গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন। একে অন্যের ভালো লাগাগুলোকে সম্মান করতে শিখুন।

২/ ভুল বোঝাবুঝির সময়টাতে বাজে চিন্তাগুলোকে দূরে রাখুন

একটা সম্পর্ক কখনোই একই রকমভাবে ভালো যাবে না। সম্পর্কের মাঝে সমস্যা আসবেই, তর্ক হবেই, মনোমালিন্য থাকবেই। সম্পর্কের এই সময়টাতে অনেক সময় দেখা যায়, দুই পক্ষই একে অন্যকে সহ্য করতে পারছে না। এমনকি ভালোবাসার সকল কাজ তখন বিরক্তিকর মনে হতে শুরু করে। এই সময়ে নিজেকে শান্ত রাখতে হবে এবং নিজেকে বোঝাতে হবে যে, এই খারাপ সময়টুকু চলে গেলে এমন বিরক্তিকর ভাবটা মনের মধ্যে আর থাকবে না। হয়তো আমাদের মনোমালিন্যের এই সময়টাতে আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনাকে বারবার কল দিচ্ছেন, যেটা আপনি বিরক্ত হচ্ছে। কিন্তু একবার ভাবুন তো, তিনি কেনো আপনাকে বারবার কল দিচ্ছেন! বিরক্তিগুলোকে একপাশে সরিয়ে রেখে বোঝার চেষ্টা করুন তাকে। হয়ত তিনি চাচ্ছেন আপনার সাথে সকল সমস্যা ঠিক করে ফেলতে, ভুল বোঝাবুঝিগুলো ঝেড়ে ফেলতে।

৩/ তাঁর সাথে নিজের জীবনের উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে কথা বলুন

আপনি এবং আপনার ভালোবাসার মানুষ দুইজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন স্বত্বা। আপনারা দুইজনে বেড়ে উঠেছেন ভিন্নভাবে, ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন রীতিনীতি এবং ভিন্ন পরিবারে। সেক্ষেত্রে, আপনাদের দুইজনের জীবনের উদ্দেশ্যও হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটাই স্বাভাবিক। আপনি হয়তো হতে চান একজন সফল উদ্যোক্তা, এবং আপনার ভালোবাসার মানুষের স্বপ্ন একজন সফল ডাক্তার হওয়ার। দুইজনের উদ্দেশ্যই চমৎকার। কিন্তু, যেহেতু দুইজনের উদ্দেশ্য একেবারেই ভিন্ন সেক্ষেত্রে এটা নিয়ে ভবিষ্যৎ এ যেন কোন সমস্যার সম্মুখীন আপনাদের না হতে হয় সে জন্য নিজেদের উদ্দেশ্য, স্বপ্ন, ইচ্ছাগুলা নিয়ে কথা বলুন, তাকে জানান, সাথে তারটাও জানতে চেষ্টা করুন।

৪/ ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে একসাথে গল্প করুন

ভালোবাসার মানুষটির সাথে সবসময় যে খুব গুরুগম্ভীর কিংবা ভালোবাসাময় ব্যাপার নিয়েই কথা বলতে হবে, সেটা কিন্তু নয়! তার সাথে আপনার পড়া কোন গল্পের বই নিয়ে গল্প করুন, তাকে জানান কণ বইটি আপনাকে খুব আলোড়িত করেছিল এবং কেন। একইভাবে তার কাছেও জানতে চান, কোন বইটি তার খুব পছন্দ। সদ্য মুক্তি পাওয়া কোন সিনেমাটি তার ভালো লেগেছে জানতে তার কাছে অথবা, কোন দোকানের কোন খাবারটি খেতে আপনি ভালোবাসেন সেটা নিয়ে কথা বলুন তার সাথে। ভালোবাসার মানুষটির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি ক্ষেত্রে এমন ছোটখাটো কথাবার্তাগুলো খুবই কাজ করে।

৫/ আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে আপনি কী ভাবছেন, তাকে জানান

আপনি হয়তো মনে করছেন, আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাথে অনেকদিনের সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে, সে আপনার সকল ব্যাপারে জানে এবং আপনাকেও বোঝে। সে কারণেই হয়ত আপনাদের সম্পর্কটি নিয়ে আপনি কী ভাবছেন সেটিও তিনি জানেন! কিন্তু একটা কথা আপনি ভুলে যাচ্ছেন, আপনার ভালোবাসার মানুষটি কিন্তু ‘মাইন্ড রিডার’ নয়। সে আপনাকে খুব ভালোমতো জানতে পারে, তবে আপনার মনের মধ্যে কী চলছে বা আপনি ভাবছেন সেটা তিনি জানতে পারেন না! সেটি জানানোর দ্বায়িত্ব কিন্তু আপনারই! তার সাথে আপনাদের সম্পর্কটি নিয়ে খোলামেলা ভাবে কথা বলুন, তাকে জানান যে আপনি তাকে কতোটা ভালোবাসেন এবং এই সম্পর্কটা আপনার কাছে কতোটা মূল্যবান।

৬/ একে অপরের কাছে সবসময় সৎ থাকুন

শুধুমাত্র উপরের লাইনটি পড়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলতে পারেন আপনি এই ভেবে যে, ভালোবাসার সম্পর্কে সৎ না থাকার কি হলো! কিন্তু অনেকেই এই ব্যাপারটাতে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। আপনার ভালোবাসার মানুষটির কাছে নিজে সৎ থাকার অর্থ হলো আপনি নিজে যা তাই তাকে জানানো, কোন ভণিতা নয় অথবা কোন অভিনয় নয়। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং একইসাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। মিথ্যার আশ্রয় আপনার সুন্দর সম্পর্কটাকে শুধু নষ্ট করতেই সাহায্য করবে, আর কিছুই নয়!

৭/ একে অপরকে সমর্থন করুন, উৎসাহ প্রদান করুন

যে কোন ভালো কাজের ক্ষেত্রে, ভালো কোন উদ্যোগের ক্ষেত্রে একে অপরকে সমর্থন দেওয়ার, সাহস দেওয়ার এবং উৎসাহ দেওয়ার মনোভাব গড়ে তুলুন। যেকোন পরিস্থিতিতে, যেকোন ক্ষেত্রে একে অন্যের পাশে থাকুন বন্ধুর মতো। হয়ত আপনার ভালোবাসার মানুষটি রক্তদান করতে যাবেন, তাকে সাহস দিন। সম্ভব হলে তার পাশে থাকুন। অথবা আপনার ভালোবাসার মানুষটি নিজের ছোটখাটো হাতের কাজের ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে তাকে উৎসাহিত করুন, তাকে নতুন আইডিয়া দেন, তাকে পরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করুন। ভালোবাসার মানুষ হয়ে নয়, এই সকমগুলোতে একজন বন্ধু হয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করুণ!

আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাথে আপনি কীভাবে আপনার ভালোবাসার সম্পর্কটি গড়ে তুলবেন, সেটি নির্ধারন করবেন আপনিই! তাই নিজের দিক থেকে চেষ্টা করুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *