Home / চুলের যত্ন / কেতাদুরস্ত কোঁকড়া চুল দূর করনের উপায় জেনে নিন !

কেতাদুরস্ত কোঁকড়া চুল দূর করনের উপায় জেনে নিন !

কোঁকড়া চুল সুন্দর রাখতে অতিরিক্ত যত্ন নিতে হয়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে কোঁকড়া চুলের যত্নের উপায় জানুন!

চুল ময়েশ্চারাইজ করুন
কোঁকড়া চুল সাধারণত ভঙ্গুর প্রকৃতির ও শুষ্ক। তাই ময়েশ্চারাইজও বেশি লাগে।
প্রয়োজনে চুলে প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজ করতে হয়। কোঁকড়া চুলের যত্নে প্রথমে নারিকেল তেল ব্যবহার করতে হবে। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে। নারিকেল তেল হালকা গরম করে স্কাল্পে ম্যাসাজ করে লাগান। কোঁকড়া চুল প্রাকৃতিক উপায়ে মাথার স্কাল্প থেকে খুব বেশি তেল পায় না। তাই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন তেল ম্যাসাজ জরুরি।
এ ধরনের চুলের জন্য শ্যাম্পু কেনার সময় অবশ্যই ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ শুষ্ক চুলের উপযোগী শ্যাম্পু কিনতে হবে। শ্যাম্পু শুষ্ক চুলকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজ করবে। এ ছাড়া ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ শ্যাম্পু মাথার স্কাল্প হাইড্রেট করে। কোঁকড়া চুল একসঙ্গে দুইবার শ্যাম্পু করা উচিত নয়, যদি বেশি নোংরা না হয়। একবার শ্যাম্পু করার পর খেয়াল করতে হবে চুল পরিষ্কার হয়েছে কি না। গোসলের পর চুল ভালো করে শুকাতে হবে। না হলে চুলে গন্ধ হবে এবং খুশকির উপদ্রব দেখা দেবে।

ডিপ কন্ডিশনিং
কোঁকড়া চুলে নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হয়। সময় কম থাকলে শ্যাম্পুর সঙ্গে কন্ডিশনার মিশিয়ে একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়। ডিপ কন্ডিশনার করতে মাইল্ড শ্যাম্পুর সঙ্গে বেশি পরিমাণ কন্ডিশনার মিশিয়ে চুল পরিষ্কার করুন। এতে চুল ধোয়ার সময়ই ময়েশ্চারাইজ হয়ে যাবে। এভাবে পরিষ্কার করলে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ঠিক থাকবে, যার ফলে চুল শুষ্ক হয়ে উঠবে না।

জট খুলুন
কোঁকড়া চুলে খুব সহজেই জট পড়ে। এই জট শুকনো চুলে ছাড়ানোর চেষ্টা করবেন না। এতে চুল ভেঙে যাবে। বেশি জট হলে চুলের জট ছাড়ানোর জন্য স্প্রে ব্যবহার করুন। এ ছাড়া চুল অল্প ভেজা থাকতে আঁচড়ে নিন। কোঁকড়া চুলের জন্য বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন, যাতে চুল আঁচড়ানোর জন্য খুব প্রেসার দিতে না হয়।

চুল শুকানো
কোঁকড়া চুল শুকানোর জন্য খুব মোলায়েমভাবে তোয়ালে ব্যবহার করুন। বেশি ঘষে চুল শুকানোর চেষ্টা করলে চুল ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়া আরো বেশি জট তৈরি করবে। আস্তে আস্তে চুল মুছবেন এবং তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে রেখে চুল শুকাবেন।

হিট ট্রিটমেন্ট
কোঁকড়া চুলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করা ভালো। এতে চুল আরো শুষ্ক হয়ে যায়। ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকালে বা চুল সোজা করার যন্ত্র ব্যবহারে কোঁকড়া চুলের স্বাভাবিক কোঁকড়া ভাবটি নষ্ট হবে। চুল শুকানোর সময় হেয়ার ড্রায়ারের ডিফিউজার মুড ব্যবহার করুন।

স্টাইল
কোঁকড়া চুলে লেয়ার কাট সবচেয়ে ভালো মানায়। ব্যাংকস বা পিক্সি কাট কোঁকড়া চুলে মানায় না। তেমন বোঝাও যায় না। তবে স্টেপ কাট দিলে কোঁকড়া চুলে আলাদা ভলিউম তৈরি হয় এবং দেখতে ভালো লাগে। কোঁকড়া চুল ছাড়া রাখলেই বেশি ভালো দেখায়। তবে বেঁধে রাখতে চাইলে মেসি খোঁপা, বান, হালকা করে বাঁধা বেণি ইত্যাদি ভালো দেখাবে। এ ছাড়া কোঁকড়া চুল কিছুটা বেঁধে ও খানিকটা খুলে রাখার স্টাইল করা যেতে পারে।

প্রসাধন
কোঁকড়া চুল সেট করা কঠিন কাজ। তাই চুল সেট করতে সফট জেল ব্যবহার করতে হবে। জেনে রাখবেন, জেল বা পানীয় টাইপের প্রসাধন কোঁকড়া চুলের জন্য ভালো। হার্ড জেল চুলের ক্ষতি করে। তা ছাড়া হেয়ার ক্রিম বা মুজও ব্যবহার করা যায়।

চুল পড়লে
কোকড়া চুলে খুশকির সমস্যা বেশি হয়। খুশকি কমলে চুল পড়াও কমবে। খুশকি কমাতে প্রতিদিন স্কাল্পে হেয়ার অয়েল ব্যবহার করুন। প্রথমে চুল কয়েকটা ভাগে ভাগ করে নিয়ে, তুলার বল তেলে ভিজিয়ে স্কাল্পে লাগিয়ে রেখে দিন। ম্যাসাজ করার দরকার নেই। সপ্তাহে তিন দিন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। কম শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন এবং বেশি করে পানি দিয়ে চুল ধোবেন। শ্যাম্পু করার আধা ঘণ্টা আগে দুই টেবিল চামচ ভিনেগার নিয়ে স্কাল্পে ম্যাসাজ করতে পারেন। সপ্তাহে একদিন অলিভ অয়েল গরম করে ম্যাসাজ করলেও উপকার পাবেন। সারা রাত চুলে অলিভ অয়েল মেখে পরদিন সকালে লেবুর রস স্কাল্পে লাগান। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চুল ধুয়ে নিন। এক গ্লাস গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেতে পারেন। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টসও খাওয়া যেতে পারে। এতে চুল পড়া কমবে।
হেয়ার মাস্ক

পেঁয়াজের রস : চুল গজাতে পেঁয়াজের রস খুব ভালো কাজ করে। মাঝারি সাইজের তিনটি পেঁয়াজের রস নিয়ে স্কাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। চুল রুক্ষ হলে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মধু যোগ করে নিন। এটি একদিন পরপর ১৫ দিন ব্যবহার করুন। উপকার পাবেন।

লেবুর রস : অর্ধেক পরিমাণ লেবু এবং অর্ধেক পরিমাণ পেঁয়াজের রস একত্রে মিশিয়ে মাথার স্কাল্পে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। আমলকী, সিকাকাই, রিঠা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে শ্যাম্পু হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
মেথি : মেথি এক কাপ ও আমলকী পাউডার এক কাপ কুসুম গরম পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন শ্যাম্পু করার ৩০ মিনিট আগে লাগিয়ে নিন। এরপর শ্যাম্পু করুন।

চকোলেট : ৫০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট, দুই টেবিল চামচ দই ও দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক বানিয়ে নিন। এবার এই মাস্ক চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে ধুয়ে এরপর শ্যাম্পু করুন।
অ্যালোভেরা জেল : খুশকির সমস্যা থেকে বাঁচতে দুই-তিন টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এক টেবিল চামচ নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে চুলে ও স্কাল্পে লাগাতে পারেন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন।

জেনে রাখুন
* যাঁদের চুল কোঁকড়া, তাঁরা অনেক বেশি পানি পান করবেন, যাতে চুল হাইড্রেট থাকে।
* গরম পানি দিয়ে চুল ধোবেন না। অল্প কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন, যদি প্রয়োজন হয়।
* নারিকেল তেল, সরিষার তেল বা জলপাই তেল চুলে ব্যবহার করুন।
* কোঁকড়া চুলে হেয়ার কালার করার পণ্য কম ব্যবহার করবেন, যদি করেন অবশ্যই ময়েশ্চারাইজ ও কন্ডিশনিং আছে এমন পণ্য ব্যবহার করবেন।
* ভেজা চুলে চিরুনি দিয়ে জট ছাড়াতে চেষ্টা করবেন না। জট ছাড়াতে আঙুল বা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করুন।
* চুল কাটার সময় চুল শুকনো রাখবেন। কারণ ভেজা অবস্থায় কাটলে চুল শুকিয়ে যাওয়ার পর স্টাইল আলাদা হয়ে যায়।
* যাঁদের কোঁকড়া চুল, তাঁরা বালিশের কাভার সিল্কের ব্যবহার করবেন, এতে চুলে কম জট লাগবে।
* চুল সুন্দর ও সিল্কি রাখতে বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও উচিত।
কোঁকড়া চুলের কাটে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই ভালো। স্টেট লেয়ার কাটে থাকলেই দেখতে ভালো লাগবে। যেকোনো মুখের আদলের সঙ্গেই মানিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *